Skip to main content

সোলায়মান সুখন ভাই, একটু মোটিভেশন নেবেন? প্লিজ!



প্রিয় সোলায়মান সুখন ভাই, 
আপনার জীবনটা বৈচিত্রপূর্ণ। ছিলেন নেভিতে, ছিলেন স্ট্যান্ডআপ কমেডিয়ান, ছিলেন মার্কেটিং স্পেশালিস্ট, আর সবচেয়ে বড় পরিচয়টা তো আমরা জানিই। আপনি একজন মোটিভেশনাল স্পিকার। শুধু তাই না, সিক্স ডিজিট স্যালারিও পান। যারা পরীক্ষায় ফেল করে, যারা প্রেমে ব্যর্থ, যারা ভালো গ্রেড পায় না তাদের সবার প্রয়োজন পড়ে আপনাকে। আপনিই সম্ভবত বাংলাদেশে সর্বপ্রথম মোটিভেশনাল স্পিচ দিয়ে অর্থ উপার্জন করার ট্রেন্ড চালু করেছেন। মোটিভেশনাল স্পিচের একটি ভ্যালু তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। সৎ উপায়ে, নিজের বুদ্ধি এবং বাকপটুতা দিয়ে উপার্জন করছেন, এটাকে আমি এ্যাপ্রিসিয়েট করি। বাংলাদেশের মানুষ সবকিছু ফ্রিতে পেতে চায়। টরেন্ট দিয়ে মুভি নামানো, ফ্রি এমপিথ্রি ডাউনলোড, ফ্রি ই-বুক, ফ্রি পিডিএফ, ফ্রি এ্যাপস...এমন দেশে আপনি উৎসাহব্যাঞ্জক কথা বলে অর্থ উপার্জন করতে সক্ষম হয়েছেন, এর প্রশংসা করতেই হয়।
আপনার কিছু মোটিভেশনাল স্পিচ আমি শুনেছি। আপনার বিভিন্ন খবর নিউজফিডে এসেই যায়। আপনাকে এড়ানো যায় না। আপনাকে নিয়ে ট্রোল হয়েছে, রোস্টিং হয়েছে, ব্যাঙ্গাত্মক নাটক হয়েছে তারপরেও আপনি অদম্যভাবে মোটিভেশন দিয়ে যাচ্ছেন, এর জন্যে গাটস লাগে আসলেই।
তবে আমার এই মুহূর্তে মনে হচ্ছে আপনার নিজেরও কিছুটা মোটিভেশন দরকার। সারাজীবন সাফল্যের সূত্র বিলিয়ে যাওয়া অনেকেরই শেষ জীবন ভালো কাটে নি। সবাইকে হাসিয়ে যাওয়া রবিন উইলিয়ামসও আত্মহত্যা করেছিলেন। তাই কখন কী হয়, এই আশঙ্কায় আপনাকে কিঞ্চিৎ মোটিভেশন দেবার জন্যে এই লেখার সূত্রপাত।
সুখন ভাই, ছাত্ররা রাস্তায় নেমেছে। আন্দোলন করছে। বৃষ্টির মধ্যে। তারা গাড়ি আটকেছে। আপনার গাড়িও আটকেছিলো। আপনাকে যেতে দেয় নি! আপনি বলেছিলেন আপনার গুরুত্বপূর্ণ তিনটা মিটিং আছে। একটা না, দুইটা না, তিন তিনটা! তারপরেও তারা গাড়ি ছাড়ে নি। শুধু তাই না, আপনি বলেছিলেন যে আপনি একজন ফেসবুক সেলিব্রেটি এবং ইত্যাদি ইত্যাদি, তারপরেও ছাড়ে নি! ঘটনা এখানেই শেষ হলে কথা ছিলো। কিন্তু তা আর হলো কই! খুনী ড্রাইভার এবং তার সহযোগীদের গ্রেফতার করার পর আপনি ফেসবুকে (যেখানে আপনি সেলিব্রেটি) আহবান জানিয়েছিলেন সবাইকে ঘরে ফিরে যেতে। অথচ দেখুন, তারা এখনও রাস্তায় আছে। শুধু যে রাস্তায় আছে তা না, গাড়ি চেকিং করছে, ড্রাইভারের লাইসেন্স না থাকলে যেতে দিচ্ছে না। এমন কি পুলিশকেও ছাড়ছে না। আপনি বলেছিলেন ডিসি অফিসে গিয়ে স্মারকলিপি-টিপি আর কি যেন দিতে, তারা কিছু তো দেয়ই নি, উলটো আলটিমেটাম দিয়ে বেড়াচ্ছে গলার রগ ফুলিয়ে! কী একটা অবস্থা না! আপনি তাদের সাথে বৃষ্টিতে ভিজে, মিটিং মিস করে, ফেসবুক সেলিব্রেটি পরিচয় প্রদান করে থাকলেন, কিন্তু তারা কথাই শুনলো না। শুনলাম আপনি না কি এই ধকল সামলাতে না পেরে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আমার আশঙ্কার কারণ এটাই।
কচি কচি ছেলেমেয়েগুলো তিনদিন ধরে বৃষ্টিতে ভিজে হাসপাতালে ভর্তি হলো না, অথচ আপনি একদিন ভিজেই ভর্তি হয়ে গেলেন, অথচ আপনি একসময় নেভিতে ছিলেন! ফিটনেসের এই অবস্থা আপনার হবার কথা না। তবুও হলো, কারণটা শারীরিক নয়, মানসিক। আপনি সম্ভবত মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার কারণেই অসুস্থ হয়েছিলেন। সেজন্যেই এই বিপর্যয়। সেজন্যেই আপনার মোটিভেশনের দরকার।
কিন্তু আমি আপনাকে কি মোটিভেশন দিবো? হু এ্যাম আই? স্যালারিও সিক্স ডিজিট না, নেভিতেও ছিলাম না। একবার খালি খুলনায় এক নেভি বন্ধুর জাহাজে গিয়ে বসনিয়ান রুটি খেয়েছিলাম। আমার দৌড় অতটুকুই। (রুটির স্বাদ ভালো ছিলো।)।
কিন্তু সোশাল মিডিয়ায় কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে আমি আপনাকে আশাবাদ দিতে পারি, একসময় ফেসবুক সেলিব্রেটিরা তাদের প্রাপ্য বুঝে পাবে। তাদের জন্যে আলাদা লেন হবে গাড়ির। হোটেলে বিশেষ রিজার্ভেশন থাকবে। কোনোকিছু প্রথম প্রথম শুরু হলে মানুষ সেটা নিতে পারে না। আপনি যখন প্রথম প্রথম মোটিভেশনাল স্পিচ দিতে শুরু করেছিলেন, তখন কে ভাবতে পেরেছিলো যে এটা একটা পেশা হতে পারে? নো বডি! আপনি কাল বলেছিলেন ফেসবুক সেলিব্রেটি বিধায় গাড়ি ছেড়ে দিতে। কিন্তু তারা দিলো না। কেন? কারণ তারা সেরকম কথা আগে কখনও শোনে নি। আমরা নতুন নতুন তত্ত্ব এবং ধারণাকে এভাবেই উড়িয়ে দেই। Shame on us!
আপনার গতকালকের সেই বাণী আমাকে নতুন আশা যুগিয়েছে। নতুন স্বপ্ন দেখিয়েছে। একদিন আমিও ফেসবুক সেলিব্রেটি হবো। লাখ লাখ ফলোয়ার থাকবে। পাবো বিশেষ সুবিধা। ততদিনে আপনি হবেন ফেসবুক সেলিব্রেটি সংঘের প্রধান কার্যনির্বাহী সম্পাদক। সারা বিশ্ব অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকবে। আমরা নতুন উদাহরণ তৈরি করবো! আপনি হতোদ্যম হবেন না ভাই। ফেসবুক সেলিব্রেটিরা অবশ্যই একদিন বাস্তব জীবনেও বিশেষ সুবিধা পাবে। আজ পায় নি, কাল পাবে। আপনি এই অধিকার আদায় করেই ছাড়বেন। আমাদের পথ দেখাবেন।
সুখন ভাই, নেক্সট লেকচারে ফেসবুক সেলিব্রেটি হবার উপায় এবং এর সুবিধাসমূহ সম্পর্কে বিস্তারিত বলবেন আশা করি। নাহলে এই অবোধ জাতিকে বোঝানো যাবে না। ভালো থাকবেন, শরীরের যত্ন নিবেন।
শুভকামনা রইলো।

ইতি
হাসান মাহবুব

Comments

Popular posts from this blog

ডার্ক ওয়েব, ডিপ ওয়েব, মারিয়ানাস ওয়েব, মিথ বনাম বাস্তবতা

আমি ডার্ক ওয়েবে এক সময় মাসের পর মাসে পড়ে থেকেছি”, আমার এক প্রবাসী ছোট ভাই একদিন কথা প্রসঙ্গে জানালো। আমি তখন ডার্ক ওয়েব নিয়ে অল্পবিস্তর পড়াশোনা করছি। নানারকম গা ছমছমে গল্প পড়ি, কিন্তু ঢোকার সাহস পাই না। কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করি, কেন সে ওখানে অত সময় কাটাতো। সে বড় অদ্ভুত এক উত্তর দিলো। তার স্বপ্ন হচ্ছে সর্বোচ্চ লেভেলের হাইটেক অনলাইন সিকিউরিটিতে কাজ করা। সেসব কাজ করতে হলে ওকে এমন সব কিছুর এক্সেস পেতে হবে, যা সাধারণ মানুষের পক্ষে হজম করা সম্ভব নয়। আর এসব অভিজ্ঞতা নিতে হলে ডার্ক ওয়েবের চেয়ে ‘ভালো’ কিছু আর কী হতে পারে?
খুব সংক্ষেপে বলে নেই ডার্ক ওয়েব কী। ডার্ক ওয়েব হলো ইন্টারনেটের এমন একটি অংশ, যেখানে সাধারণ সার্চ ইঞ্জিন অথবা ব্রাউজার দিয়ে প্রবেশ করা যায় না। এর জন্যে লাগে বিশেষ ব্রাউজার এবং সার্চ ইঞ্জিন। যেমন টর এবং অনিয়ন।
কী থাকে ডার্ক ওয়েবে?

প্রশ্নটা বরং এমন হওয়া উচিত, কী থাকে না ডার্ক ওয়েবে! জাল পাসপোর্ট চান? পেয়ে যাবেন। পেশাদার খুনী চান? পেয়ে যাবেন। পাইরেটেড বই, সিডি লাগবে? কোনো ব্যাপারই না! আর দুর্ধর্ষ সব হ্যাকিং টুল তো খুবই সহজলভ্য! যেকোন ধরণের ড্রাগস, চলবে? আছে! খুন, টর্চার, রেপ, এনিমেল…

মুভি রিভিউ-তেহরান ট্যাবুঃ যে ইরানকে আপনি সিনেমায় কখনও দেখেন নি

আমি জানি আপনি ইরানি চলচ্চিত্র পছন্দ করেন। পছন্দ না করে উপায় কী! তাদের কাহিনী, নির্মাণ, অভিনয় সবই তো বিশ্বমানের। ইরান যে বিশ্ব চলচ্চিত্রের পাওয়ারহাউজ হয়ে দাঁড়িয়েছে, এটা বেশ বিস্ময়ের! এত এত সীমাবদ্ধতা এত এত চোখ রাঙানির পরেও সে দেশে প্রতিবছর অসাধারণ সব চলচ্চিত্র তৈরি হচ্ছে, বিশ্ব চলচ্চিত্রের ক্ল্যাসিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, অবাক করা ব্যাপার আসলেই! আমরা দেখেছি চিলড্রেন অফ হেভেনে ভাই-বোনের সম্পর্কের মর্মস্পর্শী বিবরণ, আমরা দেখেছি কালার অফ প্যারাডাইসে অন্ধ ছেলের চোখে পৃথিবীর রঙ, আমরা দেখেছি সং অফ স্প্যারোতে একজন বাবার বর্ণাঢ্য জীবন সংগ্রাম, দেখেছি টেস্ট অফ চেরিতে বিষণ্ণ একজন মানুষের নীরব প্রয়ান। ক্লাসিক ছবির তালিকাটা বড় দীর্ঘ! কিন্তু একটু চিন্তা করে দেখেছেন ইরানি ছবিতে আপনি প্রেমিক প্রেমিকাদের দেখেন কি না! আমার তো মনে পড়ে না! প্রেম নিয়ে একটা সিনেমাই দেখেছি, ‘বারান’। তাও আবার সেখানে প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যে ‘প্রেম’টা ঠিক হয় না। তারা দূরে দূরেই থেকে ছহি উপায়ে ভালোবাসে একে অপরকে। এরকম কেন হয়? কারণটা আপনি এবং আমি ভালো করেই জানি। ইরানে এসব দেখানো অনুমোদিত না। সেখানকার চলচ্চিত্রকারদের হাত পা বেঁধে…