পরাজিত কাশবন
রেজার বউ দিঠি কয়েকদিন ধরে খুব জ্বালাচ্ছে তাকে। সে আর তার দুই বান্ধবী ফারিয়া আর রিশাকে নিয়ে কাশবনে গিয়ে ফটোসেশন করবে। রেজা এসব একদমই পছন্দ করে না। কিন্তু উপায় কী! তবে একটা বিষয় খুব ক্ষীণভাবে হলেও তাকে উৎসাহ দিয়ে বলছে, " যা ব্যাটা, ঘুরে আয়!" ব্যাপারটা সে জেনেছে দিঠির কাছ থেকে। রিশার স্বামীর সাথে নাকি তার গত পাঁচ বছর ধরে কোনো যৌনসম্পর্ক নেই। এমন না যে লোকটা অক্ষম। রিশার তদন্তে উদঘাটিত হয়েছে যে সে ইন্টারনেটে হরদম পর্ন সাইট ভিজিট করে। এ ছাড়া অফিসের মেয়ে কলিগদের সাথেও মোবাইলে কথা বলে অনেকক্ষণ ধরে। তো রিশার দাম্পত্য জীবনের এই সংকটকালে সে নিশ্চয়ই তৃষ্ণার্ত থাকবে কিছুটা। পাঁচ বছর স্বামীর সাথে স্বাভাবিক শরীরবৃত্তিয় সম্পর্ক বজায় না রাখা কোন মেয়ের সাথে ডে আউটে গেলে কিছুটা ফ্লার্ট তো করাই যেতে পারে। এসব ভেবে সব মিলিয়ে রেজা সিদ্ধান্ত নিলো, সে যাবে।
ওদের প্ল্যান ছিলো প্রথমে রিশার বাসায় গিয়ে সারাদিন কাটিয়ে বিকেলের দিকে কাশবনে যাবে। রিশা খাবার দাবারের ব্যবস্থাও করেছে বেশ। পেট ভরে খেয়ে নিয়ে অলস ভঙ্গীমায় সোফায় গা এলিয়ে দিয়ে রেজার মনে হয়, এখানে আসার সিদ্ধান্তটা একদম খারাপ হয় নি! গরুর মাংস আর সর্ষে ইলিশ দিয়ে ভোজ করে হালকা তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় সে রিশার সাথে ফ্লার্ট করার চিন্তাটা স্থগিত করে দেয়। ঘুম আসছে ঘুম! ওদিকে মেয়েরা হৈহৈ করে ছবি তুলেই যাচ্ছে। ঘরের মধ্যে যাবতীয় আনন্দ থেকে নিজেদের স্বেচ্ছানির্বাসন নিয়েছে দুজন। একজন রেজা, সোফায় গা এলিয়ে দেয়া, আর অন্যজন রিশার স্বামী, সে অঘোরে ঘুমাচ্ছে, নাকি ঘুমের অভিনয় করছে কে জানে! তবে এটা নিশ্চিত করে বলা যায় যে রিশা আর তার স্বামীর শীতল এবং প্রায় ভেঙে যাওয়া সম্পর্কটা আজকের এই উৎসবে একটি স্পষ্ট বিভাজন রেখা তৈরি করেছে। রিশার স্বামী তারিক মনে হয় না আর ও ঘর থেকে বের হবে আজকে। থাক সেসব কথা,রেজা ভাবে। সে এসেছে, খেয়েছে, এখন একটা আরামদায়ক ভাতঘুম হলেই আর কিছু চাওয়ার থাকবে না তার।
একটু যখন চোখ বুজেছে তখনি ফারিয়া এসে উৎপাত শুরু করলো।
-ভাইয়া, আপনি ছবি তুলবেন না? আসেন আসেন!
-নাহ আমার আর কী ছবি তোলা তোমরাই তোলো।
-আরে ভাইয়া, রিশা আপুর সাথে আপনার ক্যারেকটারটা সিনক্রোনাইজ করা লাগবে না?
এখানে বলে রাখা ভালো যে, ফারিয়া একটা শর্টফিল্ম বানানোর পরিকল্পনা করেছে। একজন রাস্তার মাস্তান আর একজন পতিতাকে নিয়েই শর্টফিল্মটি আবর্তিত হবে। বলাবাহুল্য, রেজা আর রিশাকেই ঐ দুটো চরিত্রের জন্যে ভেবে রেখেছে ফারিয়া। চটপটে আর উচ্ছল মেয়ে। আর তার আবদার করার কায়দাটাও এমন, "আর ৫ মিনিট ঘুমিয়ে নেই" বলে পার পাওয়া যাবে না।
অগত্যা উঠতেই হলো রেজাকে। বারান্দায় গিয়ে দেখে তিন কন্যার মধ্যে দুই কন্যা, ফারিয়া আর রিশা উপস্থিত। বাকি জন অর্থাৎ রেজার স্ত্রী দিঠি এখনও সাজগোজে ব্যস্ত।
ফারিয়ার অনুরোধে রেজা বেশ কয়েকটা ছবি তুলে দিলো তাদের। কিন্তু এটুকু করেই কি আর কাশবনের কন্যাদের সন্তুষ্ট করা যায়? নতুন বায়না, তাদের সাথে রেজার ছবি তুলতে হবে।
তোলা যাক! রেজা ভাবলো। প্রথমে ফারিয়ার সাথে কয়েকটা ক্লিক ক্লিক এরপর রিশার সাথে ছবি তোলার পালা। ফারিয়ার শর্টফিল্মের নায়ক নায়িকা। তো নায়ক নায়িকারা তো একটু নিজেদের সাথে খুনসুটি করে ঘনিষ্ঠ হয়ে ছবি তুলতেই পারে।
-কি খবর রেজা সাহেব? নায়িকার তো কোনো খোঁজই নাও না!
বলে রিশা আরেকটু কাছে এগুলো। রেজাও খুনসুটি করতে গিয়ে আরেকটু কাছে গেলো। এখন ব্যাপারটা এমন, দুইজন একে অপরের দিকে তাকিয়ে আছে নিঃশ্বাসের আগুনে হলকা গায়ে লাগছে। দুজনই ডাকফেস করে চুমু দেয়ার ভঙ্গিতে আরো কাছে এলো।
একটু যখন চোখ বুজেছে তখনি ফারিয়া এসে উৎপাত শুরু করলো।
-ভাইয়া, আপনি ছবি তুলবেন না? আসেন আসেন!
-নাহ আমার আর কী ছবি তোলা তোমরাই তোলো।
-আরে ভাইয়া, রিশা আপুর সাথে আপনার ক্যারেকটারটা সিনক্রোনাইজ করা লাগবে না?
এখানে বলে রাখা ভালো যে, ফারিয়া একটা শর্টফিল্ম বানানোর পরিকল্পনা করেছে। একজন রাস্তার মাস্তান আর একজন পতিতাকে নিয়েই শর্টফিল্মটি আবর্তিত হবে। বলাবাহুল্য, রেজা আর রিশাকেই ঐ দুটো চরিত্রের জন্যে ভেবে রেখেছে ফারিয়া। চটপটে আর উচ্ছল মেয়ে। আর তার আবদার করার কায়দাটাও এমন, "আর ৫ মিনিট ঘুমিয়ে নেই" বলে পার পাওয়া যাবে না।
অগত্যা উঠতেই হলো রেজাকে। বারান্দায় গিয়ে দেখে তিন কন্যার মধ্যে দুই কন্যা, ফারিয়া আর রিশা উপস্থিত। বাকি জন অর্থাৎ রেজার স্ত্রী দিঠি এখনও সাজগোজে ব্যস্ত।
ফারিয়ার অনুরোধে রেজা বেশ কয়েকটা ছবি তুলে দিলো তাদের। কিন্তু এটুকু করেই কি আর কাশবনের কন্যাদের সন্তুষ্ট করা যায়? নতুন বায়না, তাদের সাথে রেজার ছবি তুলতে হবে।
তোলা যাক! রেজা ভাবলো। প্রথমে ফারিয়ার সাথে কয়েকটা ক্লিক ক্লিক এরপর রিশার সাথে ছবি তোলার পালা। ফারিয়ার শর্টফিল্মের নায়ক নায়িকা। তো নায়ক নায়িকারা তো একটু নিজেদের সাথে খুনসুটি করে ঘনিষ্ঠ হয়ে ছবি তুলতেই পারে।
-কি খবর রেজা সাহেব? নায়িকার তো কোনো খোঁজই নাও না!
বলে রিশা আরেকটু কাছে এগুলো। রেজাও খুনসুটি করতে গিয়ে আরেকটু কাছে গেলো। এখন ব্যাপারটা এমন, দুইজন একে অপরের দিকে তাকিয়ে আছে নিঃশ্বাসের আগুনে হলকা গায়ে লাগছে। দুজনই ডাকফেস করে চুমু দেয়ার ভঙ্গিতে আরো কাছে এলো।
তখনই, ক্লিক, ক্লিক! বেশ কয়েকবার। ফারিয়া কিছুটা রস কিছুটা শঙ্কার সাথে বললো "এই ছবি যদি ভাবী দেখে..."
নাহ ভাবি সেই ছবিটা দেখেনি। ছবিটা গোপন ফোল্ডারে রাখা হয়েছিলো।
রিশার সাথে রেজার সেই ঘন নিঃশ্বাস, অনাকাঙ্খিত উত্থান, আর ঢুলু ঢুলু , একটু বেশি ঘনিষ্ঠ হওয়া কয়েকটি ছবি তোলা হলো। ততক্ষনে দিঠি এসে গেছে। ফারিয়া আর দিথির সাথে কয়েকটি নিরামিষ, নিরাবেগ ছবি তোলার পরে রেজার মন বললো, "আসছে, আরো আসছে!"
নাহ ভাবি সেই ছবিটা দেখেনি। ছবিটা গোপন ফোল্ডারে রাখা হয়েছিলো।
রিশার সাথে রেজার সেই ঘন নিঃশ্বাস, অনাকাঙ্খিত উত্থান, আর ঢুলু ঢুলু , একটু বেশি ঘনিষ্ঠ হওয়া কয়েকটি ছবি তোলা হলো। ততক্ষনে দিঠি এসে গেছে। ফারিয়া আর দিথির সাথে কয়েকটি নিরামিষ, নিরাবেগ ছবি তোলার পরে রেজার মন বললো, "আসছে, আরো আসছে!"
রিশা । ভরাট শরীরের মসৃন কালো ত্বক থেকে কে যেন ডাকছে রেজাকে, "এসো, এসো না! কেউ দেখবে না"
রেজা প্রাণপনে চাইছে ব্যাপারটাকে এড়িয়ে যেতে। এর পরেরবারের ফটোসেশনে সে আর থাকবে না, সিদ্ধান্ত নেয়। তার এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই সাধুবাদ জানাবে হয়তো, তবে ব্যাপারটা বাইরে থেকে দেখলে যেমন মনে হয় সেরকম না। রিশার সাথে আরো আরো আরো ঘনিষ্ঠ হতে তার কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু তার স্ত্রী যদি বুঝে ফেলে! রেজা খুব ভালোবাসে দিঠিকে। কিন্তু সুযোগ পেলে অন্যান্য ক্ষুধার্ত পুরুষের মত সেও ঠিকই হায়েনা হয়ে উঠতে পারে। সোফায় বসে আয়েশে টিভি দেখতে দেখতে এসবই ভাবছিলো রেজা।
রেজা প্রাণপনে চাইছে ব্যাপারটাকে এড়িয়ে যেতে। এর পরেরবারের ফটোসেশনে সে আর থাকবে না, সিদ্ধান্ত নেয়। তার এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই সাধুবাদ জানাবে হয়তো, তবে ব্যাপারটা বাইরে থেকে দেখলে যেমন মনে হয় সেরকম না। রিশার সাথে আরো আরো আরো ঘনিষ্ঠ হতে তার কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু তার স্ত্রী যদি বুঝে ফেলে! রেজা খুব ভালোবাসে দিঠিকে। কিন্তু সুযোগ পেলে অন্যান্য ক্ষুধার্ত পুরুষের মত সেও ঠিকই হায়েনা হয়ে উঠতে পারে। সোফায় বসে আয়েশে টিভি দেখতে দেখতে এসবই ভাবছিলো রেজা।
আবার সময় এলো। ফ্ল্যাশ, ক্লিক, সে চিইইইইজ!
বাসার ভেতরকার ছবি তোলা শেষ। এখন বাসার সামনের পুষ্পপরিবেষ্টিত লনে ছবি তোলার পালা। ততক্ষনে আঁধার নেমে এসেছে।
প্রথম ছবি :ফারিয়া আর দিঠি
হেসেছে। ছবি ভালো হয়েছে।
দ্বিতীয় ছবি: রিশা আর ফারিয়া'
ভালো এসেছে।
হেসেছে। ছবি ভালো হয়েছে।
দ্বিতীয় ছবি: রিশা আর ফারিয়া'
ভালো এসেছে।
অন্ধকার ক্রমশ বাড়ছে। চাঁদ মেঘের আড়ালে লুকিয়ে ভয়্যারিজম করছে। আরো আঁধার চাই আরো!
অবশেষে সেই কাঙ্খিত মুহূর্তটা এলো। রেজা আর রিশা। এদের ছবি তোলা হবে। রেজা সতর্ক দৃষ্টিতে চারিপাশ দেখে নিলো। কী সুন্দর ফুলের বাগান! এসবে অবশ্য তার মন নেই। সে দেখছে দিঠি কী করে। সে বেশ একটা দূরত্বে গাছের নিচে বসে আছে।
এসো রিশা এসো! তোমার তখনকার মদির হাসি, আর চোখের ভাষা রেজার ঝানুচোখ বুঝে নিয়েছে। এসো শিগগীর! কেমন তোমার স্বামী, এত আবেদনময়ী একটা মেয়েকে অবহেলা করে!
-সে চিইইইজ!
ফারিয়া প্রস্তুত। প্রস্তুত রেজাও। রিশার অনাবৃত পিঠে হাত রাখলো জড়িয়ে ধরার ভঙ্গিতে। রিশা যেন আরো গুটিয়ে গেলো তার ভেতরে।
ওদিকে আঁধার নামছে। বৃষ্টি হবে বোধ হয়। আজ আর কাশবনে যেয়ে তিন তন্বীর শরৎ উদযাপন হবে না। শরৎ-ভরৎ নিয়ে রেজার মাথাব্যথা নেই। এখানেই তার ভালো সময় কাটছে। ছবি তোলা শেষ হলে ওরা কাশবনে যাওয়ার পরিকল্পনা বাদ দিয়ে এখানেই থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। কিছুটা পথ পেরিয়ে তিন তলায় উঠতে হবে। দিঠি আর ফারিয়া একসাথে হাঁটছে। রিশা আর রেজা একটু পেছনে। তাদের আলাপ-
ফারিয়া- দিঠি আপা, তুমি রেজা ভাইয়ার সাথে রিশা আপুর ছবি তোলা বন্ধ করো।
দিঠি-কেন রে?
ফারিয়া- কোন কেন তেনো নাই। তোমাকে যা বলেছি তাই করবা।
নিঃসন্দেহে ফারিয়া একজন ভালো পর্যবেক্ষক!
ফারিয়া প্রস্তুত। প্রস্তুত রেজাও। রিশার অনাবৃত পিঠে হাত রাখলো জড়িয়ে ধরার ভঙ্গিতে। রিশা যেন আরো গুটিয়ে গেলো তার ভেতরে।
ওদিকে আঁধার নামছে। বৃষ্টি হবে বোধ হয়। আজ আর কাশবনে যেয়ে তিন তন্বীর শরৎ উদযাপন হবে না। শরৎ-ভরৎ নিয়ে রেজার মাথাব্যথা নেই। এখানেই তার ভালো সময় কাটছে। ছবি তোলা শেষ হলে ওরা কাশবনে যাওয়ার পরিকল্পনা বাদ দিয়ে এখানেই থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। কিছুটা পথ পেরিয়ে তিন তলায় উঠতে হবে। দিঠি আর ফারিয়া একসাথে হাঁটছে। রিশা আর রেজা একটু পেছনে। তাদের আলাপ-
ফারিয়া- দিঠি আপা, তুমি রেজা ভাইয়ার সাথে রিশা আপুর ছবি তোলা বন্ধ করো।
দিঠি-কেন রে?
ফারিয়া- কোন কেন তেনো নাই। তোমাকে যা বলেছি তাই করবা।
নিঃসন্দেহে ফারিয়া একজন ভালো পর্যবেক্ষক!
আর ওদিকে,
রেজা সাহস করে বলেই ফেললো,
-ডিড ইউ ফিল দ্যা হিট?
-তুমি খুব বাড় বেড়ে গেছো, না!
-আমি কিন্তু ফিল করবো। বাসায় গিয়ে ভাববো তোমাকে।
ততক্ষনে তারা সিঁড়ির কাছে এসে গেছে। আর কথা হলো না তাদের মধ্যে।
বাসায় গিয়ে তারা ছবিগুলো দেখতে থাকে। কোনোটা হাসির, কোনটা উদ্ভট, কার চোখে ক্যামেরার ফ্ল্যাশ লাইট পড়েছে এসব দেখতে দেখতে বেশুমার হাসি-হল্লা হলো। যেহেতু ছবি তোলার পর্ব শেষ, তাই রেজা তার মনের অবদমিত কামনাকে ছুটি দিয়ে ছবিগুলো দেখা শেষ করে চা খেতে বসে।
'
চা, অন্থুন, চানাচুর। খেতে থাকে সবাই। শুধু ঘুমিয়ে অথবা ঘুমের ভান করে কক্ষবন্দি হয়ে থাকে তার রিশার স্বামী। হঠাৎ চা ঝলকে রেজার প্যান্টে লাগলে রিশা তার বাকপটুতার পরিচয় দিয়ে একটি বাক্যের ক্যামোফ্লেজে অন্য একটি বাক্য বলে,
"কি রেজা! তাপ লেগেছে? ফিল করেছো? আরো কত কী যে ফিল করবা বাসায় গিয়ে!”
বলতে গিয়া রিশা হাসে। রেজা ছাড়া অন্যরা এর মর্মার্থ বুঝতে না পেরে আনমনে চানাচুর খেতে থাকে। আর রেজা ভাবে, আরেকটু সুযোগ পেলে যা হতো না! এখন অবশ্য রিশা তার পাশেই বসে আছে। তবে এখন কোন সুযোগ নেয়া ঠিক হবে না। সে তার মনকে বোঝায়। কিন্তু তার বিবেক এত দুর্বল ছিলো, যে অবচেতন মনকলোনি থেকে ছুটে আসা কামুক শয়তানের দল নিরস্ত্র বিবেককে পিটিয়ে ছাতু বানিয়ে ফেললো! তাই পাশে বসে থাকা রিশার আরো কাছে এসে তার সিল্কি চুলে হাত দিয়ে কাঁপা কাঁপা গলায় বললো,
-এটা কি পার্লার থেকে করেছো?
-হ্যাঁ।
রেজা সাহস করে বলেই ফেললো,
-ডিড ইউ ফিল দ্যা হিট?
-তুমি খুব বাড় বেড়ে গেছো, না!
-আমি কিন্তু ফিল করবো। বাসায় গিয়ে ভাববো তোমাকে।
ততক্ষনে তারা সিঁড়ির কাছে এসে গেছে। আর কথা হলো না তাদের মধ্যে।
বাসায় গিয়ে তারা ছবিগুলো দেখতে থাকে। কোনোটা হাসির, কোনটা উদ্ভট, কার চোখে ক্যামেরার ফ্ল্যাশ লাইট পড়েছে এসব দেখতে দেখতে বেশুমার হাসি-হল্লা হলো। যেহেতু ছবি তোলার পর্ব শেষ, তাই রেজা তার মনের অবদমিত কামনাকে ছুটি দিয়ে ছবিগুলো দেখা শেষ করে চা খেতে বসে।
'
চা, অন্থুন, চানাচুর। খেতে থাকে সবাই। শুধু ঘুমিয়ে অথবা ঘুমের ভান করে কক্ষবন্দি হয়ে থাকে তার রিশার স্বামী। হঠাৎ চা ঝলকে রেজার প্যান্টে লাগলে রিশা তার বাকপটুতার পরিচয় দিয়ে একটি বাক্যের ক্যামোফ্লেজে অন্য একটি বাক্য বলে,
"কি রেজা! তাপ লেগেছে? ফিল করেছো? আরো কত কী যে ফিল করবা বাসায় গিয়ে!”
বলতে গিয়া রিশা হাসে। রেজা ছাড়া অন্যরা এর মর্মার্থ বুঝতে না পেরে আনমনে চানাচুর খেতে থাকে। আর রেজা ভাবে, আরেকটু সুযোগ পেলে যা হতো না! এখন অবশ্য রিশা তার পাশেই বসে আছে। তবে এখন কোন সুযোগ নেয়া ঠিক হবে না। সে তার মনকে বোঝায়। কিন্তু তার বিবেক এত দুর্বল ছিলো, যে অবচেতন মনকলোনি থেকে ছুটে আসা কামুক শয়তানের দল নিরস্ত্র বিবেককে পিটিয়ে ছাতু বানিয়ে ফেললো! তাই পাশে বসে থাকা রিশার আরো কাছে এসে তার সিল্কি চুলে হাত দিয়ে কাঁপা কাঁপা গলায় বললো,
-এটা কি পার্লার থেকে করেছো?
-হ্যাঁ।
অবশেষে...
অবশেষে দিঠির নজরে পড়লো ব্যাপারটা। রিশা একটু উঠলেই রেজাকে এসে আক্রমণ করলো সে,
-এ্যাই তুমি ওর চুলে হাত দিলা কেনো?
-এমনি!
-এমনি মানে? দাঁড়াও, বাসায় যাই, তারপর তোমাকে সাইজ করবো!
-কাশবনে যাবা না? বৃষ্টিতো প্রায় থেমেই গেছে।
কথা ঘোরানোর চেষ্টা করে রেজা। সবাইকে অবাক করে দিয়ে রিশার স্বামী তারিক ঘর থেকে বের হয়ে বলে,
-এখান থেকে যাবার কোন রাস্তা নাই।
-রাস্তা নাই! মানে কী? রেজা আর দিঠির বিস্ময়াভিভূত জিজ্ঞাসা।
-থাকলে কি আমি এই মেয়ের সাথে এখানে পাঁচ বছর কাটিয়ে দিতে পারতাম?
-আচ্ছা রিশার সাথে আপনার সমস্যটা কী বলেন তো! ও তো খুব ভালো মেয়ে। দেহে মনে।
-দেহটা তো আপনি ভালোই চিনে ফেলসেন তাই না? হাহাহা।
রেজা অপ্রস্তুত হয়ে কিছু একটা বলতে গিয়ে বারবার ব্যর্থ হয়।
অনেক কসরৎ করে বলে,
-আপনি এসব কী বলছেন!
-যা বলার বলে ফেলেছি। ঐসব টুটকা ফাটকা ব্যাপার নিয়ে না ভেবে বর্তমানের অবস্থার কথাটা ভাবেন।
-কী ভাববো?
-আপনারা এখান থেকে যেতে পারবেন না। লুপে পড়ে গেছেন।
-কিসের লুপ?
-হাহাহা! সৌভাগ্যের বিষয়, আমার শ্রবণশক্তি খুব ভালো। ফারিয়া দিঠিকে বলেছিলো আপনার সাথে রিশার ছবি যেন আর তোলা না হয়। তার মানে কী বলেন! আপনি একটু হাতাপাতি করেছেন এইতো! এই কথাগুলো রিশা ফারিয়াকে বলবে, আপনি বাসায় গিয়ে দিঠির তোপের মুখে পড়বেন। এভাবেই তো চলছে, তাই না?
-এ্যাই তুমি ওর চুলে হাত দিলা কেনো?
-এমনি!
-এমনি মানে? দাঁড়াও, বাসায় যাই, তারপর তোমাকে সাইজ করবো!
-কাশবনে যাবা না? বৃষ্টিতো প্রায় থেমেই গেছে।
কথা ঘোরানোর চেষ্টা করে রেজা। সবাইকে অবাক করে দিয়ে রিশার স্বামী তারিক ঘর থেকে বের হয়ে বলে,
-এখান থেকে যাবার কোন রাস্তা নাই।
-রাস্তা নাই! মানে কী? রেজা আর দিঠির বিস্ময়াভিভূত জিজ্ঞাসা।
-থাকলে কি আমি এই মেয়ের সাথে এখানে পাঁচ বছর কাটিয়ে দিতে পারতাম?
-আচ্ছা রিশার সাথে আপনার সমস্যটা কী বলেন তো! ও তো খুব ভালো মেয়ে। দেহে মনে।
-দেহটা তো আপনি ভালোই চিনে ফেলসেন তাই না? হাহাহা।
রেজা অপ্রস্তুত হয়ে কিছু একটা বলতে গিয়ে বারবার ব্যর্থ হয়।
অনেক কসরৎ করে বলে,
-আপনি এসব কী বলছেন!
-যা বলার বলে ফেলেছি। ঐসব টুটকা ফাটকা ব্যাপার নিয়ে না ভেবে বর্তমানের অবস্থার কথাটা ভাবেন।
-কী ভাববো?
-আপনারা এখান থেকে যেতে পারবেন না। লুপে পড়ে গেছেন।
-কিসের লুপ?
-হাহাহা! সৌভাগ্যের বিষয়, আমার শ্রবণশক্তি খুব ভালো। ফারিয়া দিঠিকে বলেছিলো আপনার সাথে রিশার ছবি যেন আর তোলা না হয়। তার মানে কী বলেন! আপনি একটু হাতাপাতি করেছেন এইতো! এই কথাগুলো রিশা ফারিয়াকে বলবে, আপনি বাসায় গিয়ে দিঠির তোপের মুখে পড়বেন। এভাবেই তো চলছে, তাই না?
ততক্ষণে ফারিয়া আর রিশা এসে গেছে এখানে। রিশা এসে রাগত দৃষ্টিতে তারিকের দিকে তাকিয়ে থাকলো কিছুক্ষণ। তারপর ফেটে পড়লো সেও,
-তোমার মতো চামাড়রা তো এভাবেই ভাববে। সবাইকে একরকম ভাবো কেন?
-আহা ডার্লিং রাগ করো কেন? আমি চলে যাচ্ছি এখান থেকে। কিছু নাস্তা কিনে নিয়ে আসি।
-তোমার কিছু কেনা লাগবে না। ওরা নাস্তা খেয়েছে।
-কিন্তু আমাকে যে যেতেই হবে! দূর থেকে এসব ব্যাপার দেখতে ভালো লাগে। কাছে থেকে দেখলে অস্পষ্ট হয়ে যায় সবকিছু। যেমন ধরো না, আমাদের বিয়ের আগে যোগাযোগের তেমন ব্যবস্থা ছিলো না, তাই কত সুন্দর প্রেম ছিলো! আর এখন বিয়ে হবার পরে... হ্যাঁ, তুমি হয়তো বলবে যে সবাই একরকম হয় না, মেনে নিচ্ছি। এবার দিঠি শোনেন, আমার কাছ থেকে না, ফারিয়ার কাছ থেকে। ও কেন আপনাকে রেজা আর রিশার ছবি তুলতে মানা করেছিলো সেটা বুঝেছেন?
-আগে বুঝি নি, রেজা যখন রিশার চুল ধরেছিলো তখন বুঝেছি।
-এসব নিয়ে হয়তোবা ঝগড়া হবে আপনাদের মাঝে। কিন্তু আমাদের মধ্যে কিছু নিয়ে ঝগড়া তো দূরের কথা, কোনো কিছু নিয়েই কথা হয় না। জেলাসি তো নেই'ই! এদিকে ফারিয়াকে দেখেন সে তার প্রবাসী স্বামীর অযাচিত সন্দেহের কোপে রক্তাত্ত। বলা যায়, আমরা সবাই মোটামুটি রিলেশন নিয়ে সমস্যায় আছি।
একটু থেমে, বিরতি নিয়ে সে বলা শুরু করলো,
-দিঠি আর রেজার মধ্যে তেমন কোন সমস্যা ছিলো না, তবে আজকের ঘটনার অনুপুঙ্খ বর্ণনা যখন জানতে পারবেন ফারিয়ার কাছ থেকে তখন আপনাদেরও নানারকম সমস্যার তৈরি হবে।
-তোমার মতো চামাড়রা তো এভাবেই ভাববে। সবাইকে একরকম ভাবো কেন?
-আহা ডার্লিং রাগ করো কেন? আমি চলে যাচ্ছি এখান থেকে। কিছু নাস্তা কিনে নিয়ে আসি।
-তোমার কিছু কেনা লাগবে না। ওরা নাস্তা খেয়েছে।
-কিন্তু আমাকে যে যেতেই হবে! দূর থেকে এসব ব্যাপার দেখতে ভালো লাগে। কাছে থেকে দেখলে অস্পষ্ট হয়ে যায় সবকিছু। যেমন ধরো না, আমাদের বিয়ের আগে যোগাযোগের তেমন ব্যবস্থা ছিলো না, তাই কত সুন্দর প্রেম ছিলো! আর এখন বিয়ে হবার পরে... হ্যাঁ, তুমি হয়তো বলবে যে সবাই একরকম হয় না, মেনে নিচ্ছি। এবার দিঠি শোনেন, আমার কাছ থেকে না, ফারিয়ার কাছ থেকে। ও কেন আপনাকে রেজা আর রিশার ছবি তুলতে মানা করেছিলো সেটা বুঝেছেন?
-আগে বুঝি নি, রেজা যখন রিশার চুল ধরেছিলো তখন বুঝেছি।
-এসব নিয়ে হয়তোবা ঝগড়া হবে আপনাদের মাঝে। কিন্তু আমাদের মধ্যে কিছু নিয়ে ঝগড়া তো দূরের কথা, কোনো কিছু নিয়েই কথা হয় না। জেলাসি তো নেই'ই! এদিকে ফারিয়াকে দেখেন সে তার প্রবাসী স্বামীর অযাচিত সন্দেহের কোপে রক্তাত্ত। বলা যায়, আমরা সবাই মোটামুটি রিলেশন নিয়ে সমস্যায় আছি।
একটু থেমে, বিরতি নিয়ে সে বলা শুরু করলো,
-দিঠি আর রেজার মধ্যে তেমন কোন সমস্যা ছিলো না, তবে আজকের ঘটনার অনুপুঙ্খ বর্ণনা যখন জানতে পারবেন ফারিয়ার কাছ থেকে তখন আপনাদেরও নানারকম সমস্যার তৈরি হবে।
তারিকের এই দীর্ঘ ভাষণ শুনে চারজনা বেশ বিচলিত হয়ে একে অপরের সাথে ঝগড়া শুরু করলো।
-আমি বাইরে গেলে দরোজা কি লক করে দেবো?
ঝগড়াঝাঁটি, শোরগোলের মধ্যে কেউ তার কথা শুনতে পায় না। তারিক দরোজা বন্ধ করে দিয়ে চলে যায়।
চুপচাপ বসে থাকে ওরা চারজন। ওদের কাশবনে যাওয়া হয় নি। ছবিও এখন আর তুলতে ইচ্ছে করছে না। দিঠির মন খারাপ, কারণ রেজা বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে। রিশার মন খারাপ অনেকদিন পর এরকম একটা সোমত্ত ছেলের বাহুলগ্না হওয়ার উত্তাপটা মিইয়ে যাওয়ায়। সে অবশ্য এখনও বলে যাচ্ছে যে রেজার আচরণে সে বিরক্ত হলেও দিঠির সাথে বন্ধুত্বের খাতিরে সব মেনে নিয়েছে। ফারিয়া সবকিছু নিয়েই বিপর্যস্ত। আর রেজা ভাবছে, রিশার চুলে হাত না দিলেই হতো।
রাত বাড়ছে। তারিক গেট লাগিয়ে দিয়ে দূর থেকে কীভাবে যে তাদের দেখছে কে জানে! রাত দশটার দিকে দরোজার নিচ দিয়ে একটা এনভেলপে মোড়া জিনিস দিয়ে গেলো কেউ। তারা ছিলো ক্ষুধার্ত। তাই হুড়মুড় করে খাবার ভেবে দৌড়ে গেলো সেখানে। ইনভেলপটা খুলে দেখলো একটা চিঠি,
"খেলাটা বেশ মজার, তাই না? তিন কন্যা, সাথে একজন জোয়ান পুরুষ, প্রাকৃতিক নিয়মেই কিছু একটা হবে! আপনাদেরকে তালাবন্ধ করে রাখার উদ্দেশ্য, নিজেদের সঠিক অবস্থাটা বুঝে নেয়া। আমি তো বেরিয়েই গেলাম! আর আসবো না। ভেবেছেন রিশার সাথে রেজার ঘনিষ্ট ছবির জন্যে! হাহা। আই ডোন্ট কেয়ার এবাউট হার। রেজা, আপনি আরো ছবি তোলেন রিশার সাথে, ফারিয়া, আপনি সব তদারকি করেন, আর দিঠি! জানেনইতো সব প্রেমের রাজা পরকীয়া! তো শুরু করা যাক! আর চিন্তা করবেন না, আমি কাল সকালে চলে আসবো"
ঘরে বসে থাকতে কারোরই ভালো লাগছিলো না। কী করা যায়! ওরা সিদ্ধান্ত নিলো আবার ছবি তুলবে। রিশা ছবি তুললো ফারিয়ার সাথে, দিঠি ছবি তুললো রিশার সাথে, ফারিয়া ছবি তুললো দিঠি ও রেজার সাথে...
এবং
রেজা ছবি তুললো রিশার সাথে, সেই লুকোচুরি আর হালকা চাপ আর ত্বকের স্পর্শ। সমস্যা বাঁধলো রেজার সাথে দিঠির ছবি তোলার সময়। কিছুতেই ছবি উঠছে না। অন্যদের সাথে ঠিকই ছবি ওঠে, শুধু দিঠির সাথেই সমস্যা।
রেজা ছবি তুললো রিশার সাথে, সেই লুকোচুরি আর হালকা চাপ আর ত্বকের স্পর্শ। সমস্যা বাঁধলো রেজার সাথে দিঠির ছবি তোলার সময়। কিছুতেই ছবি উঠছে না। অন্যদের সাথে ঠিকই ছবি ওঠে, শুধু দিঠির সাথেই সমস্যা।
কেউ খেয়াল করে নি রেজা আর রিশা একে অপরের চোখের দিকে তাকিয়ে হাসলো। জটিল ইঙ্গিতপূর্ণ হাসি।
রাতের বেলায় তারা সবাই মিলে বিশাল রেফ্রিজারেটরে ঘুমুতে গেলো। বিছানা বালিশ তোষক সবই খুব গরম হয়ে উঠেছে। একটা অবৈধ সঙ্গমের ইচ্ছায় তারা কাতর। রেফ্রিজারটরেই তাদের ভালো ঘুম হলো।
তারিক তার কথা রেখেছে। সে সকাল সকাল চলে এসেই দরোজা খুলে দিয়েছে।
-কই আপনারা কাশবনে যাবেন না? আজকে তো ওয়েদার ভালো!
-কই আপনারা কাশবনে যাবেন না? আজকে তো ওয়েদার ভালো!
বরফপিন্ড হয়ে থাকা মানুষেরা আরমোড়া ভাঙে। গা থেকে বরফ ঝেরে ফেলার চেষ্টা করে। কিন্তু সব বরফ কি আর যায়?
ফারিয়ার বরফগুলো অবশ্য সহজেই চলে যায়। রিশার বরফ থাকে অনেক জায়গায়। রেজা আর দিঠি বরফমুক্ত হয়ে বাসায় চলে যায়। কাশবনে আর যাওয়া হয় না তাদের।
*
-দিঠি তোমার কি মন খারাপ?
-না।
কণ্ঠ শুনে তো তা মনে হচ্ছে না।
-বললাম তো কিছু হয় নি!
-আরে বলই না প্লিজ!
-তুমি সেইদিন রিশার ব্লাউজের ভেতর হাত ঢুকিয়ে ছিলে?
-কী! কাম অন বেইবি...
তারা দুইজন চা খাচ্ছিলো। হঠাৎ করে যেন কোথা থেকে বরফপিণ্ড পড়তে থাকে তাদের চায়ের কাপে।
-দিঠি তোমার কি মন খারাপ?
-না।
কণ্ঠ শুনে তো তা মনে হচ্ছে না।
-বললাম তো কিছু হয় নি!
-আরে বলই না প্লিজ!
-তুমি সেইদিন রিশার ব্লাউজের ভেতর হাত ঢুকিয়ে ছিলে?
-কী! কাম অন বেইবি...
তারা দুইজন চা খাচ্ছিলো। হঠাৎ করে যেন কোথা থেকে বরফপিণ্ড পড়তে থাকে তাদের চায়ের কাপে।
নাহ! সেদিনের বরফগুলো কাটতে অনেক সময় লাগবে!
Comments
Post a Comment